একুশে সিলেট ডেস্ক
দেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটানোর লক্ষ্যে একযোগে ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
রোববার বিকেলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা এবং জনসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা পরিষদগুলোকে আরও শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার যে অভিযোগ উঠেছিল, নতুন এই নিয়োগের মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকি এবং গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারে এই প্রশাসকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন।
নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের অবিলম্বে তাদের স্ব-স্ব কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সাথে বিদায়ী কর্মকর্তাদের কাছ থেকে দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
সারাদেশের ৪২টি জেলা পরিষদে যারা নতুনভাবে দায়িত্ব পেলেন, তাদের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো-
রংপুর বিভাগ
পঞ্চগড়: মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুর: মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুর: মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম: মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধা: অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক।
রাজশাহী বিভাগ
জয়পুরহাট: মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়া: এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ: মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁ: মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহী: মো. এরশাদ আলী, নাটোর: মো. রহিম নেওয়াজ।
খুলনা বিভাগ
মেহেরপুর: মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়া: সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ: মো. আবুল মজিদ, যশোর: দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরা: আলী আহমেদ, বাগেরহাট: শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, খুলনা: এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী)।
বরিশাল বিভাগ
পটুয়াখালী: স্নেহাংশু সরকার, ভোলা: গোলাম নবী আলমগীর, বরিশাল: আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠি: মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুর: আলমগীর হোসেন ।
টাঙ্গাইল: এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুর: এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহ: সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনা: মো. নূরুজ্জামান (অ্যাড.), কিশোরগঞ্জ: খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জ: এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জ: মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ী: আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জ: শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুর: খোন্দকার মাশুকুর রহমান
শরীয়তপুর: সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন।
সিলেট বিভাগ
সুনামগঞ্জ: মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেট: আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজার: মিজানুর রহমান,
চট্টগ্রাম বিভাগ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লা: মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালী: মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুর: সাহাব উদ্দিন, কক্সবাজার: এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকদের ওপর সরকারের পক্ষ থেকে বেশ কিছু বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার এবং স্বচ্ছতার সাথে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন। উপজেলা পরিষদ এবং ইউনিয়ন পরিষদের সাথে জেলা পরিষদের কাজের সমন্বয় বাড়ানো। সাধারণ মানুষের সরাসরি সমস্যাগুলো শুনে দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে অধ্যাপক, আইনজীবী এবং অভিজ্ঞ সমাজকর্মীদের এই তালিকায় গুরুত্ব দেওয়ায় জেলা পরিষদের কর্মপরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
৪২ জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসকদের এই নিয়োগ মূলত স্থানীয় সরকারকে ‘ব্যুরোক্রেটিক’ বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্ত করে ‘পাবলিক-সেন্ট্রিক’ বা জনবান্ধব করার একটি বড় প্রয়াস। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই এই প্রশাসকরা তাদের নিজ নিজ জেলার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) এবং বিশেষ বরাদ্দগুলোর সঠিক বণ্টন নিশ্চিত করবেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশাবাদী।
Leave a Reply